শুল্কছাড়ের তালিকায় নাম, লাভের খাতায় কী?
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের ওষুধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দিয়েছে—এমন প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও পুরো বিষয়টি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে। নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধের ক্ষেত্রে নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক শূন্য রাখার যোগ্য দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে। তবে এর অর্থ সব বাংলাদেশি ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করা যাবে বা তাৎক্ষণিকভাবে বড় অঙ্কের রপ্তানি আয় হবে—এমন নয়।
বাংলাদেশের ওষুধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দিয়েছে—এমন শিরোনাম দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লাস চলছে। কারও কারও প্রচারে মনে হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝি বাংলাদেশকে ভালোবেসে এককভাবে বিশাল উপহার দিয়েছেন। অথচ পুরো খবরটি পড়লে দেখা যায়, বাংলাদেশের নাম আছে অনেক দেশ ও অঞ্চলের একটি তালিকায়। আর তালিকায় জায়গা পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধ বিক্রি করে মুনাফা ঘরে তোলা নয়।
ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ আমদানিতে নতুন ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। একই ব্যবস্থায় বিরল রোগ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, সেল ও জিন থেরাপিসহ কিছু নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধের জন্য ওই শুল্কের হার শূন্য রাখা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের যোগ্য দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশ আছে। আছে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানও। এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা নয়; একই নিয়মে একাধিক দেশ সুযোগ পেয়েছে।
প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ এখন এই সুবিধার আওতাভুক্ত কোন ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে? তার নিশ্চিত উদাহরণ সামনে আসেনি। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়নও বলছে, তাৎক্ষণিক লাভ সীমিত হতে পারে। বাংলাদেশে ছাড়ের কোনো শ্রেণির ওষুধ তৈরি হওয়ার উদাহরণ থাকলেও, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত পূরণ করে সেখানে রপ্তানি হচ্ছে—এমন প্রমাণ ছাড়া শুল্কছাড় থেকে আয় হচ্ছে বলা যায় না।
আরেকটি বিষয় প্রচারে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে: বাংলাদেশের জেনেরিক ওষুধ আগে থেকেই এই নতুন ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় ছিল না। ফলে বর্তমান জেনেরিক রপ্তানির ওপর থেকে হঠাৎ বিশাল বোঝা নেমে গেছে—এমন ছবিও ঠিক নয়। শূন্য নতুন শুল্ক মানে আবার সব ধরনের আমদানি শুল্ক শূন্য, তা-ও নয়।
সুযোগ পাওয়া অবশ্যই ভালো খবর। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে হলে যোগ্য ওষুধ তৈরি, মার্কিন বাজারের অনুমোদন এবং বাস্তব রপ্তানি দরকার। দৌড়ে নামার অনুমতি পাওয়াকে প্রথম পুরস্কার জেতা ভেবে লাফালাফি করলে খবর হয়তো ভাইরাল হয়; দেশের প্রকৃত লাভের হিসাব পাওয়া যায় না।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
১২৮ বার পড়া হয়েছে