সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

‘সুপার এল নিনিওতে’ চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বিশ্বজুড়ে

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:১৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
এল নিনিওর প্রভাব জোরালো হওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন ‘চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে’ প্রবেশ করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবারের এল নিনিওকে ‘সুপার এল নিনিও’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার ধরন দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এল নিনিওর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র, পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিলসহ কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্য আমেরিকার কিছু অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া, খরা ও দাবানলের আশঙ্কাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সতর্কতা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে এল নিনিওর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সময়ে স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

খরার কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদান ও ভারতের মতো দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

কী এই এল নিনিও
এল নিনিও হলো প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রের তাপমাত্রার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনিও দেখা যায় এবং এর প্রভাব প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে।

যখন নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বেড়ে যায়, তখন সেটিকে শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনিও’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। এতে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও চাপ তৈরি হয়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, এবারের এল নিনিও জুনে শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের দিকে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত মহাসাগর, ক্রান্তীয় আটলান্টিক ও অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় এলাকাতেও সমুদ্রের তাপমাত্রা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ
এল নিনিওর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন দেশ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় আগাম চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সামুদ্রিক সংকট মোকাবিলায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মৎস্য খাতে আর্থিক সহায়তা, বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রবালপ্রাচীরের ওপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম ও দাবানল মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য ক্লাউড-সিডিং বিমান ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

পানামা খাল এলাকাতেও কম বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়ছে। পানির সংকটের কারণে খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুতেও এল নিনিওর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির পাশাপাশি ইকুয়েডর ও ব্রাজিলের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

চীনেও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে দেশটির বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। একই সময়ে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, খরা ও বন্যার কারণে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয়েছে। এল নিনিও যত তীব্র হবে, এর প্রভাবও তত বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনিও একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা হলেও এর সঙ্গে মানুষের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব যুক্ত হলে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০