সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আটক ৪৪০

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভে মঙ্গলবার ৪৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আশপাশে শুরু হওয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকট ও শিক্ষকস্বল্পতাসহ শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। এ সময় কয়েকটি স্থানে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া এবং বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাও ঘটে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ সদস্য আহত হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের কারণে অন্তত ৪০০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধার মুখে পড়েছে।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, মঙ্গলবার ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে আটকের চূড়ান্ত সংখ্যা পরে জানা যাবে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। এর জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ পুলিশের পদক্ষেপের সমর্থনে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ‘অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে’ ব্যবস্থা নিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ভাঙচুর করা নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরা। তাঁর ভাষ্য, অনেক শ্রেণিতে ৩৪ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে এবং শিক্ষকেরাও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে আছেন।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতা ও স্কুল অবরোধের ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান। তাঁর মতে, বিক্ষোভের অধিকার এমন কর্মকাণ্ডের অজুহাত হতে পারে না, যাতে শিক্ষার্থী, স্কুলের কর্মী বা সরকারি কর্মীরা ঝুঁকিতে পড়েন।

গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর তা ফ্রান্সের বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বিক্ষোভের ঘটনায় ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল হবে। উচ্চবিদ্যালয়ের আশপাশে আতশবাজি, আগুন ও সহিংসতার ঘটনায় শিক্ষার্থী, স্কুলকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। শিক্ষক, হাসপাতালের কর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়নগুলো কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে এসব ধর্মঘটে প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে অধিকাংশ এলাকায় ধর্মঘট ও অন্যান্য কর্মসূচি বড় ধরনের কোনো ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০