ময়মনসিংহে ড্রামে লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। ময়মনসিংহে ড্রামে লাশ উদ্ধারের এই নির্মম ঘটনার পেছনে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন ধর (৫৪)। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং অটোরিকশার ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া শামীম মিয়া (৩৮) নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ময়মনসিংহের গলগণ্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি নিহতের অটোরিকশা রাখার গ্যারেজের ব্যবস্থাপক ছিলেন।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধারের পর নিহতের স্ত্রী কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা মূল আসামি শামীমকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা যায়, শামীমের বাসায় অনৈতিক কাজের একটি আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন ধর। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে শামীমকে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল ও টাকা দাবি করতে থাকেন তিনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর টাকা দাবি করা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে শামীম শীল ও বটি দিয়ে আঘাত করে নিরঞ্জনকে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে প্রথমে চটের বস্তা ও পরে একটি চালের ড্রামে ভরে ইজিবাইকযোগে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শীল ও বটি উদ্ধার করে পুলিশ। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে পিবিআই।
১১৯ বার পড়া হয়েছে