মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় নড়াইলে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মানসুর মোল্যা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পিরোলী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মানসুর মোল্যা কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা (২০) একই গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার পিরোলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাসেদ মোল্যার সঙ্গে তাঁর বংশীয় হাসিব মোল্যার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাসিব ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর পরদিন শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদমতলা ত্রিমোহনা মোড়ের একটি দোকানে যান। সেখানে ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার চাচাতো ভাই মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলাম তাঁর কাছে গিয়ে কাসেদের গায়ে হাত তোলার কারণ জানতে চান।
এ সময় হঠাৎ ধারালো অস্ত্র বের করে হাসিব মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলামকে কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এতে মানসুর গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে পাশের জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে পৌঁছালে তিনি মারা যান। আহত নূর ইসলামকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা বলেন, ‘হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ধারালো ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।’
নিহত মানসুর মোল্যার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে