রোয়াংছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মধু পূর্ণিমা উদযাপন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করেছেন মধু পূর্ণিমা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় নানা আয়োজনে অংশ নেন দায়ক-দায়িকা ও ভক্তরা।
মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে রোয়াংছড়ির বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে শত শত ভক্তের সমাগম হয়। পুণ্যলাভের আশায় তারা ভিক্ষুদের মধু, ফলমূল, মধু মিশ্রিত পায়েস, ছোয়াইংসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দান করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রার্থনা ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিয়ে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন।
উপজেলার কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহারেও দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। বিহারাধ্যক্ষ উঃপঞ্ঞানন্দ মহাথের ধর্মদেশনা দেন। এতে দায়ক-দায়িকা, ভক্ত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সন্ধ্যায় পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন, ধর্মীয় সভা ও বুদ্ধ-কীর্তনসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়।
বৌদ্ধ ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ বর্ষাকালীন সময়ে পারিলেয়্য বনে অবস্থানকালে একটি হাতি নিয়মিত তাঁকে ফলমূল দান করত। একসময় একটি বানর মৌচাক এনে বুদ্ধকে দান করতে চাইলে মৌচাকে ছানা ও ডিম থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে বানরটি মৌচাক পরিষ্কার করে পুনরায় মধু দান করলে বুদ্ধ তা গ্রহণ করেন।
পারিলেয়্য বনে হাতির সেবা ও বানরের মধু দানের এই ঘটনাকে স্মরণ করেই ভাদ্র পূর্ণিমার দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘মধু পূর্ণিমা’ হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ উৎসব পালিত হওয়ায় এটি ‘ভাদ্র পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত।
১০৯ বার পড়া হয়েছে