সর্বশেষ

সারাদেশ

মান্দা-মহাদেবপুর সীমান্তে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ
মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একাধিক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও এখনো কাঁচা সড়ক, আবার কোথাও এইচবিবি সড়কের ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষায় কাদায় এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় এসব সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকা যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের সময় সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়িত হয় না। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের সতীহাট বাজারের উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে সরকারের বয়লারের মোড় হয়ে বিমল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত এইচবিবি সড়টির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে। কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও ইট উধাও হয়ে মাটির অংশ বেরিয়ে পড়েছে। ইঁদুরের গর্তের কারণেও সড়কের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই এটি নষ্ট হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কটি দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মান্দার মৈনম ইউনিয়নের কদমতলী মোড় থেকে গণেশপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়া হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বনাথ মণ্ডলের বাড়ির পাশ দিয়ে আদিবাসীপাড়া সংলগ্ন বাঁশার পুকুরের মোড় পর্যন্ত সড়কটি এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে সড়কটি কাদায় ভরে যায়। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক, রবিউল ইসলাম, বয়েজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বপন বলেন, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য হাটে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। বর্ষায় এই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহবুবুজ্জামান সেতু বলেন, বছরের পর বছর ধরে সড়কগুলোর এমন অবস্থা। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সংস্কার ও উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হওয়া দরকার।

গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বলেন, জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা দুটির সংস্কার ও উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তাঁর জানামতে, একটি রাস্তার মাপজোখ হয়েছে। অন্য রাস্তার কাজও দ্রুত শুরু হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ এলে অবহেলিত রাস্তাগুলোর কাজ করা হবে।

শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভবিষ্যতেও উন্নয়নকাজ অব্যাহত থাকবে। তবে এলাকাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় সড়কসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মান্দা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, ওই এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে রাস্তা দুটির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তার কাজও করা হবে।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, আগামী ২৮ তারিখে এডিবির মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের জন্য মিটিং রয়েছে। ওই মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এবার শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন তাঁরা।

১০৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০