সর্বশেষ

সারাদেশ

অভাব জয় করে বিচারকের আসনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজল পাঁড়ে

আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
চরম দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজল পাঁড়ে। ভূমিহীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের এই সন্তানের অভাবনীয় সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারকেই নয়, বদলে দিয়েছে পুরো মাধাইপুর গ্রামের ইতিহাস।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মাধাইপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজল পাঁড়ে। তিনি ‘তুরি’ নামের একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ি দম্পতির একমাত্র সন্তান। চরম দারিদ্র্যের কারণে কাজলের তিন বোনের পড়ালেখা প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে কাজলের পড়াশোনা থামতে দেননি তাঁর বাবা-মা।

মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্থানীয় মিশন স্কুল ও এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিকের পাঠ শেষ করেন কাজল। এরপর রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে নিজের খরচ চালাতে কাজলকে নিয়মিত টিউশনি করতে হয়েছে।

ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে দিনমজুর বাবা নরেশ পাঁড়েকে করতে হয়েছে অমানুষিক পরিশ্রম। ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বল ঘরের একমাত্র দুগ্ধজাত গাভিটি। এমনকি সরকারের কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচিতেও শ্রমিকের কাজ করেছেন তিনি। অবশেষে ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে দীর্ঘ বছরের সেই কষ্টের সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন এই বাবা-মা।

কাজলের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, বরং গোটা মাধাইপুর গ্রামের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ২২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রামে ইতিপূর্বে কোনো সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না। কাজলই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই গ্রামের পক্ষ থেকে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথা বিচারক পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। কাজলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে পুরো গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সুপারিশ পাওয়ার পর কাজল পাঁড়ে জানান, অবহেলিত ও দরিদ্র মাধাইপুর গ্রামের সন্তান হিসেবে এই গৌরব অর্জন করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং তাঁর অবহেলিত সম্প্রদায় ও পুরো গ্রামের মানুষের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ভবিষ্যতে দেশের বিচারব্যবস্থায় সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০