সর্বশেষ

সারাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল রুপি তৈরি: সিসিটিভিতে বাড়ির মালিক, মামলায় কেবল ভাড়াটিয়া

আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:২৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকায় একটি বাড়িতে জাল ভারতীয় রুপি তৈরির ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামকে জাল নোট তৈরির কক্ষে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে ও সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তবে ৮ আগস্ট র‌্যাবের অভিযানে দায়ের করা মামলায় তাঁর নাম নেই। মামলায় বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. খান সাহেবসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান মহল্লায় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জাল ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫০০ রুপির ২৩টি বান্ডিল ও ২০০ রুপির দুটি বান্ডিল ছিল।

এ ছাড়া জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিশেষ বিদেশি জাল সুতা, ড্রাফটিং কাগজ, ধাতব ডাইস, রাবার, রঙের কেমিকেল, ল্যাপটপ, সিপিইউ, দুটি কালার প্রিন্টার ও হিটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের ওই অভিযানে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীপাড়া গ্রামের তৌসিকুল ইসলাম তোসিফ (৩০) ও নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মন্দিখোর গ্রামের শামীম আলী (৩২) আটক হন। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়া ও পলাতক মো. খান সাহেবসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব।

সম্প্রতি পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির বলে জানা গেছে। প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, জাল নোট তৈরির কক্ষে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। সেখানে বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামকে বসে থাকতে দেখা যায়। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফুটেজ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই বলে স্বীকার করেন শহিদুল ইসলাম। তবে জাল নোট তৈরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

শহিদুল ইসলামের দাবি, র‌্যাবের অভিযানের প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে তিনি বাড়িতে জাল নোট তৈরির বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ভাড়াটিয়া খান সাহেবকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন এবং বাড়িতে ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেন। অভিযানের সময় তিনি শিবগঞ্জের খাসেরহাটে ছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে তাঁর অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার প্রধান ও পলাতক আসামি মো. খান সাহেবও জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ওই বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। অন্য কক্ষে কী কর্মকাণ্ড চলত, তা তিনি জানতেন না। বাড়ির মালিকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের কারণে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খান সাহেব বলেন, ঘটনার দিন ওষুধ আনতে বাইরে গেলে বাড়িতে র‌্যাবের অভিযান চলছে বলে তাঁকে ফোনে জানানো হয়। পরে তিনি বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় রুপি উদ্ধারের খবর পান। তাঁর ভাড়া নেওয়া কক্ষে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. সাকিল হোসেন বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজটি আমিও দেখেছি। তবে এটি আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলায় তিনজন আসামি থাকলেও তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে।”

র‌্যাব-৫-এর সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।”

জাল ভারতীয় রুপি তৈরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে বাড়ির মালিকের উপস্থিতি এবং মামলায় তাঁর নাম না থাকার বিষয়টি তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ফুটেজটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের কার্যক্রম যাচাই করে ঘটনায় কার কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল, তা নির্ধারণের বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০