নওগাঁয় ঢোল-মাদলের সুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব উদযাপন
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর পত্নীতলায় সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘কারাম’ আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ঢোল, মাদল ও মন্দিরার ছন্দময় সুরে মেতে উঠেছেন বিভিন্ন আদিবাসী তরুণ-তরুণী। নিজেদের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উৎসব প্রাঙ্গণ।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের আয়োজনে পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক মাঠে সমবেত হয়েছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ওঁরাও, মুন্ডা, সাঁওতাল, মাহাতো ও হাঁড়িসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ। লাল-হলুদ শাড়ি, পায়ে আলতা আর মাথায় ফুল গুঁজে বাহারি সাজে অংশ নেন নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বাদ্যযন্ত্রের তালে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আবহমানকাল ধরে ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে মাঠে ধান রোপণের কাজ শেষে এই উৎসব পালন করে আসছেন সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে কদম গাছের ডাল বা 'কারাম' ডাল কেটে এনে বিশেষ পূজা করা হয়। তাদের বিশ্বাস, এই উৎসব ও পূজা প্রকৃতিকে শান্ত রাখে এবং তাদের জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনে।
উৎসবের মূল অংশে নির্দিষ্ট মাঠে কদম গাছের ডাল পুঁতে ফুল ও নতুন কাপড়ে সাজানো হয়। সেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে বিশেষ অর্চনা ও পূজা। পূজা শেষে দল বেঁধে মাদলের তালে সমবেত গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। সবশেষে ঐতিহ্যবাহী নিয়মে সেই ডাল নদীতে বা নিকটস্থ জলাশয়ে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের ইতি ঘটে।
এবারের উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে পেরে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তারা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি স্তরে জোরালো পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান। গবেষকদের মতে, আধুনিকতার ভিড়ে আদিবাসীদের এই আবহমান সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে তরুণ সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে