সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে ট্রাম্পের ঔদ্ধত্য আচরণ

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়।’ মঙ্গলবার জাতিসংঘে প্রবেশের সময় কলিন্সকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রতি সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় সিএনএন সেখানে তাঁর সংবাদ সংগ্রহ করতে আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি যে সিএনএন এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছে। আপনাদের এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করার কথা না। আপনারাই তো বলেছিলেন যে আমার সংবাদ সংগ্রহ করবেন না।’

তবে সম্প্রচারে ফিরে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করেন কেইটলান কলিন্স। তিনি জানান, সিএনএন প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব গণমাধ্যমের কর্মীরা কার্যত হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে পারছেন না।

তবে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সিএনএনকে নিষিদ্ধ করে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও জাতিসংঘে নিয়মিত স্বীকৃত গণমাধ্যম হিসেবে তাদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে সোমবার আদালতে যৌথ মামলা করেছে তিনটি সংবাদমাধ্যম। আগামী বুধবার বিকেলে এ মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। নেতিবাচক সংবাদ প্রচারকে তিনি ‘দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। আদালত হোয়াইট হাউসের বিপক্ষে রায় দিলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আবারও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলিকে ‘অপেক্ষাকৃত কম নিরপেক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সুতরাং আপনি কখনোই বলতে পারবেন না (ভুয়া তথ্য)। আমি মনে করি ভুয়া খবর মুছে ফেলার অধিকার আমাদের আছে।’

হোয়াইট হাউসের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোও সংহতি প্রকাশ করেছে। সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনো নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব না দিয়ে সব ধরনের ‘পুল’ সংবাদ সংগ্রহ স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে অন্যান্য নেটওয়ার্কগুলো।

এর পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি সংবাদ সংস্থা প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার বিষয়ে সম্মিলিতভাবে একমত হয়েছে।

সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ব্লেয়ার সেন্টার ফর টেলিভিশন অ্যান্ড পপুলার কালচারের পরিচালক রবার্ট থম্পসন মনে করেন, সবসময় প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করা প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ সংগ্রহবিহীন এই পরিস্থিতি ক্ষতিকর হতে পারে। সে কারণে নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রেসিডেন্টের এ ধরনের মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এই বিশ্লেষক।

১৩২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০