ইলিশের আকালে জ্বালানিরও দাম বাড়তি, দিশেহারা মহিপুরের জেলেরা
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর বৃহত্তম মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরে জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকূলীয় জেলেরা। এমনিতেই ইলিশের আকাল ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত মৎস্যজীবীরা নতুন করে এই তেলের দাম বাড়ায় গভীর সংকটে পড়েছেন। মৎস্য খাতকে বাঁচাতে অবিলম্বে তেলের দাম কমানোর অথবা বিশেষ সরকারি ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পটুয়াখালীর অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরে বছরজুড়েই ছিল ইলিশের আকাল। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে আগে থেকেই বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে রয়েছেন স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকরা। এর ওপর হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
স্থানীয় ট্রলার মাঝি সুলতান মিয়া তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ধার-দেনায় এমনিতেই তারা জর্জরিত। নতুন করে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বেড়ে যাওয়া উপকূলীয় ট্রলার চালকদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আরেক জেলে সোবাহান মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শুধু ট্রলার চালানোর খরচই বাড়বে না, সেই সঙ্গে মাছ আহরণ, পরিবহন ও কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের খরচও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে উপকূলের সামগ্রিক মৎস্য খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছেন তারা। এই সংকট মোকাবিলায় তেলের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে রাখা অথবা জেলেদের বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে তেল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর বাইরেও আরও অন্তত ৫০ হাজার অনিবন্ধিত জেলে এই পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জ্বালানি তেলের এই আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি বিপুল সংখ্যক এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকার সংকট এবং তেলের দাম কমানোর দাবির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জেলেদের এই যৌক্তিক উদ্বেগের কথা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১২৪ বার পড়া হয়েছে