সর্বশেষ

সারাদেশ

সাতক্ষীরায় ফারজানা হত্যায় মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরায় ৯ বছরের শিশু ফারজানা খানমকে নৃশংসভাবে হত্যার পর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারী নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সন্তানহারা পরিবার ও স্থানীয় নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

গত ২০ জুলাই সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা কাশিবাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা খানম স্কুলে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা যায়, সে স্থানীয় সুমাইয়া নামের এক নারীর দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে গিয়েছিল। সন্দেহবশত স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা সুমাইয়ার বাড়ি তল্লাশি করলে তার ঘরের ড্রয়ার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফারজানার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হয়, কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতেই শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

উত্তেজিত জনতা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং অভিযুক্ত সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। শিশু ফারজানার পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়। পরবর্তীতে ফারজানার বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন এবং সেই মামলায় প্রধান অভিযুক্তের ভাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

কিন্তু এই ঘটনার পর নিহত অভিযুক্ত সুমাইয়ার পরিবার থেকে দুটি পৃথক পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু করেছে। ফারজানার শোকগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার বহু নিরপরাধ মানুষকে এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি বানিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা নাজমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নাজমা খাতুন বলেন, একদিকে তাঁরা সন্তান হারানোর অবর্ণনীয় শোকে কাতর, অন্যদিকে মিথ্যা মামলার কারণে তাঁর স্বামীসহ আত্মীয়স্বজনরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সন্তান হারিয়ে এখন আবার মিথ্যা মামলার আসামি হতে হচ্ছে, এটা কেমন বিচার? সংবাদ সম্মেলন থেকে এই অমানবিক হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে সাতক্ষীরার জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০