সর্বশেষ

সারাদেশ

জামালপুরে সারের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কৃষক

ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর
ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জামালপুরে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের পরিচর্যার ব্যস্ত সময়ে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অনেকে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এতে একদিকে কৃষকের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো ফসলে সার প্রয়োগ নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

জামালপুরের বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে প্রতিদিন সকাল থেকেই কৃষকদের ভিড় বাড়ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার সারি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা।

জামালপুর জেলা সাতটি উপজেলা ও আটটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। কৃষকদের সার সরবরাহের জন্য জেলায় ২১৯টি বিসিআইসি ও ৪৭টি বিএডিসি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। তবে এসব ডিলার পয়েন্টে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ীর লংকারচর এলাকার বাদশা মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, সার সংগ্রহ করতে গিয়ে দিনের বড় একটি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অনেক সময় খালি হাতেও ফিরতে হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ও চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কৃষক শাহালম, নবাব আলী ও দুলাল মিয়া বলেন, ফসলের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের পেছনেই দিনের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পেয়ে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে যাচ্ছেন। সেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

সার সরবরাহের পাশাপাশি ডিলার পয়েন্ট নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকেরা। মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের মুনু মিয়া ও শ্যামপুর ইউনিয়নের আমডাঙা গ্রামের কৃষক কামাল মিয়াসহ কয়েকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার পয়েন্ট নির্ধারণে নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন ডিলার থাকার কথা থাকলেও কোথাও একজন, আবার কোথাও চার থেকে পাঁচজন ডিলার রয়েছেন।

জেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নে একজন ডিলার থাকলেও বগারচর ইউনিয়নে রয়েছে পাঁচজন। মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ও ফুলকোঁচা ইউনিয়নে দুটি করে ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। অন্যদিকে শ্যামপুর ও নয়ানগর ইউনিয়নে চার থেকে পাঁচটি করে ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নে দুটি এবং সাপধরী ইউনিয়নে একটি ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। এ ছাড়া বিএডিসির অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট পৌর শহরকেন্দ্রিক বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।

গত কয়েক দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জের মেসার্স মুক্তা এন্টারপ্রাইজ, পলি এন্টারপ্রাইজ ও মহর এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্ট গত বৃহস্পতিবার বন্ধ ছিল। ফলে সার নিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, এ অঞ্চলের বেশির ভাগ ডিলার পয়েন্ট নিয়মিত খোলা থাকে না।

কৃষকদের দাবি, যেসব ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বেশি, সেখানে বরাদ্দও তুলনামূলক বেশি যাচ্ছে। বিপরীতে কম ডিলার থাকা ইউনিয়নে কম বরাদ্দ দেওয়ায় সারের প্রাপ্যতায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। ফলে কোনো কোনো ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলেও অন্য এলাকায় তুলনামূলক কম চাপ থাকছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি দুই হাজার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ফসল ও সবজির চাষাবাদ চলছে। এ সময়ে কৃষকদের জন্য প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষকদের দাবি, ডিলার পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ লাইন কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়ার নিশ্চয়তাও চান তাঁরা।

তবে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘যে পরিমাণ ডিলার থাকার কথা, সে পরিমাণে নেই। নতুন নিয়োগ হলে এ সংকট কেটে উঠবে। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি, কৃষকের শ্রম ও সময় যেন সারের লাইনে আটকে না থাকে। কৃষকেরা যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে সার সংগ্রহ করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরিদর্শন করছি। তবে কিছু কৃষক গুজবে কান দিয়ে অগ্রিম সার কিনছেন।’

শুধু সার মজুত থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময়ে প্রয়োজনমতো সার কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০