সর্বশেষ

সারাদেশ

লামায় উন্নয়ন তহবিলের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মো.আরিফ, বান্দরবান 
মো.আরিফ, বান্দরবান 

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দরিদ্র শিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কিছু শিশুকে সামান্য স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, খাতা ও কলম দিয়ে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

লামা উপজেলা পরিষদের ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের রেজুলেশন অনুযায়ী, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দের আওতায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মোট সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণির দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণ’ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাঁর ওয়ার্ডের চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের তালিকার সঙ্গে বিতরণ করা শিক্ষা সামগ্রীর কোনো মিল নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় কিস্তির আওতায় অবকাঠামো ও সেচ খাতে মোট ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এসব প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—

হারগাজা থাঙ্কুই পাড়া মেইন রোড থেকে মংবাচিংয়ের বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিংকরণ—বরাদ্দ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
রাংগা ঝিরি আর্মি রাসেলের বাড়ি থেকে পূর্ব পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবিকরণ—বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা।
পশ্চিম হায়দারনাশী রফিকের বাড়ি থেকে সাহাব উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তা এইচবিবিকরণ—বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা।
ইয়াংছা কাঁঠালছড়ায় নুরুচ্ছফা সর্দার পাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবিকরণ—বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা।
হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণ—বরাদ্দ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে আইপিএসসহ সোলার স্থাপন ও কটেজ রংকরণ—বরাদ্দ ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি নির্দেশিকা উপেক্ষা করে অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকদেখানো সামান্য কাজ করে পুরো বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। সাংবাদিকদের লেখার মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলে প্রকল্পের টাকা লোপাট হয়ে যেত।

ওই ইউপি সদস্য আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তাঁকে পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের ৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, বাকি ৯০ হাজার টাকা তাহলে কার পকেটে যাবে?

তবে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রুহুল আমিন খন্দকার বলেন, দরিদ্র শিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী এখনো বিতরণ করা হয়নি। বর্ষায় যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তালিকা তৈরির কাজও এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে সভা হয়েছে। শিগগিরই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে এবং প্রকল্পগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রকল্পগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

১১২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০