কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধে নির্বিচারে গাছ কেটে গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-গঙ্গামতি সৈকত রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও থামছে না কুয়াকাটা বেড়িবাঁধ দখল। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সংস্কার করা এই বাঁধের স্লোপ ও রিভার সাইটে নতুন করে গড়ে উঠছে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। একই সঙ্গে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে বন বিভাগের গাছপালা, যা পুরো পর্যটন এলাকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাগরকন্যা কুয়াকাটা সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে এক বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই বাঁধের স্লোপ দখল করে থাকা ৬৭৩টি অবৈধ স্থাপনা সরাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের প্রায় দেড়শ কোটি টাকা সহায়তায় বাঁধের মেরামত, কংক্রিট ব্লক স্থাপন ও দুই পাশে বনায়ন করে ঘাসের আবরণ তৈরি করা হয়। তবে কোটি কোটি টাকার এই সৌন্দর্যবর্ধন এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় বাঁধের ওপর আবার শুরু হয়েছে ফ্রি-স্টাইল দখলবাজি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে শুরু করে ঝাউবাগান এবং গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত শত শত নতুন দোকানপাট ও ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে অন্তত দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়েছে। এই দোকানপাট তৈরির সুবিধার্থে বনের গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে।
এই বেড়িবাঁধটি লতাচাপলী ইউনিয়ন, ধুলাসার ইউনিয়ন এবং কুয়াকাটা পৌরসভার মানুষের জানমাল রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে। এভাবে অবৈধ দখলদারিত্ব চলতে থাকলে প্রবল বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে পড়বে পুরো কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, সৈকতের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেট এলাকায় নতুন গড়ে ওঠা অবকাঠামোগুলো সরিয়ে নিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, বাঁধ ও সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বন বিভাগের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে