ভারতে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১৮ বাংলাদেশি
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতে বিভিন্ন সময়ে পাচারের শিকার হয়ে আটক ১৮ বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল চেকপোস্টে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছেন। তারা খুলনা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নরসিংদী, বরিশাল, যশোর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন—সিয়াম হাওলাদার (১৪), নিউটন কুমার (১৮), জয় কুমার (১৭), আনজু বেগম (৩৫), শাপলা খাতুন (২২), সাকিবুল সরদার (৬), আব্দুর রহমান (১৫), স্বপন জোহা (৬), শাহীন মোল্লা (৮), লিমা বালাভ (১৬), সুমি খাতুন (১২), পপি রায় (১৫), সনি আক্তার (১৪), সালমান (১), জান্নাতি খাতুন (১২), ইশারত জাহান শ্রাবণী (১৪), বাসন্তী রায় (১৬) ও মেহেদী হাসান (১৫)।
এর মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী আনজু বেগমকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পর দেশে ফেরত আনা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের জোসনা বেগমের মেয়ে। মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হন আনজু। পরে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান।
২০১৭ সালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনজুর সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তাঁকে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকার বনানী রোটারি ক্লাবের সদস্য মো. শামসুল হুদার উদ্যোগে আনজুকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু পাচার রোধবিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত উদ্যোগে ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে পশ্চিমবঙ্গের ধ্রুবআশ্রম, চিনি, সংকল্প, কিশলয়া, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম, এস এম এম হোম, সুকন্যা হোম, শহীদ বন্দনা বালিকা স্মৃতি আবাস ও সুবায়ন হোমে তাঁদের রাখা হয়। নাগরিকত্ব যাচাই শেষে তাঁদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়।
কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের কাছে তাঁদের হস্তান্তর করে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি, স্থানীয় এনজিও, ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাঁদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে বলে জানা গেছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে