আড়াই লাখ কোটি টাকার তিন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণে মেট্রোরেলের তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। তিন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্প তিনটি হলো—এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর–কমলাপুর), এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট (হেমায়েতপুর–ভাটারা) এবং এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট (গাবতলী–দাশেরকান্দি)। এর মধ্যে লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের সংশোধিত ব্যয় ও মেয়াদের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে লাইন-৫ সাউদার্ন রুট।
জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। সংশোধিত প্রস্তাবে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এই মেট্রোরেল উড়াল ও পাতাল—দুই ধরনের পথেই নির্মিত হবে।
এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটিও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অন্যদিকে, গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। বাকি অংশ উড়ালপথে নির্মিত হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
সাউদার্ন রুট প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে সমন্বিতভাবে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে জাইকার অর্থায়নে চলমান লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের সংশোধিত ব্যয় ও মেয়াদের প্রস্তাবও একই বৈঠকে তোলা হয়।
নতুন সাউদার্ন রুট চালু হলে রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চল গাবতলীর সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের দাশেরকান্দির সরাসরি মেট্রোরেল যোগাযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পটির আওতায় মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থাপন, ট্রেন ও ডিপো সরঞ্জাম সংগ্রহ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসনের কাজ থাকবে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে