গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও ঘাটতি ১২৫ কোটি ঘনফুট
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রায় দুই মাস পর দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা কমেছে। তবে চাহিদার তুলনায় দৈনিক এখনো ১২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।
প্রায় দুই মাস ধরে চলা গ্যাস সরবরাহ সংকট কিছুটা কমে এসেছে। মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হওয়ায় শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। তবে দেশের সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে দেশে মোট ২৬১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে এসেছে ৯৯ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর আগে দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। তখন দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট।
টার্মিনালে ত্রুটির পর এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে শিল্পকারখানায় গ্যাসের সংকট তীব্র হয়। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়। কেউ কেউ ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হন। একই সময়ে গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। আবাসিক গ্রাহকদেরও কম চাপের গ্যাস নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক প্রায় ৮৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছিল। এখন তা বেড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট হয়েছে। গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাবেও গ্যাস সরবরাহ বাড়ার প্রভাব দেখা গেছে। সোমবার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট। সংকটের সময়ে এই উৎপাদন প্রায়ই ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে বা আশপাশে ছিল।
এর আগে সোমবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পরে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও দেশের দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সরকারি হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮৬ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে মঙ্গলবার সরবরাহ হয়েছে ২৬১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২৫ কোটি ঘনফুট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩২ শতাংশ।
গত আগস্টে দেশে গ্যাসের গড় সরবরাহ আরও কমে ২২৩ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমানো, ইউনিট বন্ধ রাখা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ঘটনা বেড়ে যায়।
এদিকে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমে প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজির ওপর দেশের নির্ভরতা বাড়ছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। যুদ্ধের আগে স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০ থেকে ১২ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে। ফলে বাড়তি দামে এলএনজি আমদানি করেও দেশের গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা যাচ্ছে না।
১১২ বার পড়া হয়েছে