গাজীপুরে ব্রিফকেসে মরদেহ উদ্ধার রহস্য উন্মোচন, প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত ও খণ্ডিত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পিবিআই। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে নিহতের পরকীয়া প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাসায় যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি গাজীপুরের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মূল অভিযুক্ত মিশন ইসলাম, তাঁর মা বানু আক্তার এবং বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টন। তাঁরা সবাই গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি বিয়ের দাবি নিয়ে মিশনের বাসায় যান। সেখানে পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিশন তাঁকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই রাতে প্রথমে ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। এরপর সে নিস্তেজ হয়ে পড়লে গলায় লুঙ্গি পেঁচিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, পরদিন লাশ গুম করার লক্ষ্যে বটি দা ও ব্লেড দিয়ে মরদেহটি কোমর থেকে দুই টুকরো করা হয়।
খণ্ডিত দেহের একাংশ বাজার থেকে কেনা একটি ট্রাভেল ব্যাগে এবং অপর অংশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর বন্ধু মিল্টনের সহায়তায় অটোরিকশা ও সিএনজিযোগে লাশটি ভবানীপুর এলাকার একটি খালে ফেলে দেওয়া হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপ, নিহত ডলির মুঠোফোন ও এনআইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১২৬ বার পড়া হয়েছে