নওগাঁয় আউশের বাম্পার ফলনের পর ধানের বাজারে ধস, কৃষকের লোকসান
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানের বাজারে আকস্মিক দরপতনের কারণে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আমদানি বৃদ্ধি ও বোরো মৌসুমের অতিরিক্ত মজুতের অজুহাতে আউশ ধানের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন আমন মৌসুমেও কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৫৮ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ৭ হাজার ১৭৩ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে কেবল মহাদেবপুর উপজেলাতেই ১৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে পারিজা, বিনা ধান-১৯ ও ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ চাষ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানো এই উৎপাদনের বিপরীতে বাজারে ধানের দাম না থাকায় চাষিদের আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
নওগাঁর বিভিন্ন হাটে জিরাশাইল, কাটারি ও বিআর-২৮ জাতের ধান মানভেদে প্রতি মণ মাত্র ৬৮০ থেকে ৮ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রয়মূল্য একই সীমায় থাকায় কৃষকদের খাটুনি ও পরিবহন খরচ লোকসানের খাতায় যোগ হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে আউশ ধান সংগ্রহ না করার সুযোগে ব্যবসায়ী ও মিলারদের একটি সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছে।
মহাদেবপুরের রাইগাঁ এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক রহমত আলী জানান, সার, ডিজেল ও কীটনাশকের চড়া দামের কারণে বিঘাপ্রতি খরচ ১৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ৮০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে পাওনাদারের ঋণ শোধ করতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য কৃষকেরাও একই সুরে বলছেন, গত বছর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধান এবার মণপ্রতি ৪০০ টাকা কমে বিক্রি করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, পূর্বের অতিরিক্ত চাল আমদানির প্রভাবে মোকামে চালের চাহিদা কম থাকায় মিলমালিকেরা ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান জানান, প্রতি একর আউশ উৎপাদনে কৃষকের গড় খরচ হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে প্রান্তিক চাষিরা তীব্র সংকটে পড়বেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে