কুয়াকাটায় বঙ্গবন্ধুর পরিবর্তে মন্ত্রী এ্যানির ছবি ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি ব্যবহার করে জমি দখল, একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোসাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আকন।
অভিযোগের প্রতিকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীর আকন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জমির মালিকদের নিরাপত্তা এবং জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাহাঙ্গীর আকন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটা এলাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করে আসছেন। তার দাবি, সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে সৈয়দ মোসারেফ, জি এম ফারুক, মো. ইউনুছ মিয়া ও মোসাম্মাৎ জাহানারা ইসলাম ৭৭ শতাংশ জমির মালিক হন। ১৯৯৭ সাল থেকে জমিটির মালিকানা থাকলেও পরবর্তী সময়ে আনোয়ার নামে এক পাহারাদারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মোসাররফ হোসেন জমিটি দখলে নেন।
তার অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোসাররফ রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। বর্তমানে জমির সামনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি সংবলিত ব্যানার ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জমির দখল ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে ৩৫৭/২৪, ৩৫৮/২৪, ৪৭৯/২৪ ও ১৪৯/২৪ নম্বরসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে। ঢাকাতেও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীপক্ষ জমিটি অবৈধভাবে ভোগদখলে রাখে। জমির মালিকরা দখল নিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরের দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে গেলে মোসাররফ হোসেন তার লোকজন নিয়ে তাকে আটক করেন এবং ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনজন আইনজীবী ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জমিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশে নিজের ছবি দিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছিলেন মোসাররফ। বর্তমানে একইভাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কিছু ছবিও সাংবাদিকদের দেখানো হয়।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীর আকনের দাবি, সান ভিউ প্রপার্টিজ লিমিটেডের পক্ষে মোসাররফ হোসেনসহ ছয়জন ওই জমির মালিক ছিলেন। পরে মোসাররফ জমিটির মূল্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি করেন। তবে বিক্রির অর্থের মধ্যে অপর পাঁচ মালিকের অংশ তাদের না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিএস ৭৭৭ নম্বর খতিয়ানের রাখাইন মার্কেটের পূর্ব পাশে থাকা আরেকটি জমির ক্ষেত্রেও শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের মামলায় আলোচিত আবেদ আলীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোসাররফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
২৫৯ বার পড়া হয়েছে