সর্বশেষ

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে দুর্নীতির ‘বরপুত্র’ খাদ্য কর্মকর্তা পেলেন নতুন দায়িত্ব

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি ধান-চাল ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে এবার কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় জেলার কৃষক ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে উলিপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান ও চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও খাদ্য বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো তাকে জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ গুদামের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে কুড়িগ্রামের সচেতন মহল ও বঞ্চিত কৃষকেরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের আফতাবগঞ্জ মিয়াজীপাড়া এলাকার একাধিক প্রকৃত কৃষকের নাম লটারিতে উঠলেও তারা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গুদামে ধান সরবরাহ করেছে। রুজিনা বেগম, মোছাঃ কেলেকভান ও শিমু বেগমের মতো প্রান্তিক নারীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এই জاليةতি করা হয়েছে, যাদের নিজস্ব কোনো চাষযোগ্য জমিই নেই। বিনিময়ে তাদের হাতে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম জানান, ৭-৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেও তিনি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেননি। একাধিকবার আবেদন করলেও লটারিতে তার নাম ওঠেনি। তার মতো শত শত প্রকৃত চাষি ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, আর সুবিধা লুটেছে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া ও খাদ্য কর্মকর্তার সিন্ডিকেট।

চলতি মৌসুমে উলিপুর উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন। ফড়িয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এর মধ্যে ২ হাজার ২৭১ মেট্রিক টন ধান এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ দেখানো হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে এভাবে কাগজ-কলমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় সরকারি সংগ্রহ অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম সদরে খাদ্য পরিদর্শক পদ শূন্য থাকায় সাময়িকভাবে আশরাফুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই নতুন পরিদর্শক যোগ দিলে তিনি এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন। এছাড়া উলিপুরের ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০