ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন। জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় তাঁর এই পদত্যাগের খবর জানা গেল।
২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। তবে সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে এনেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর ভাষ্য, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি জমিটির বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে ধারাবাহিকভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন সায়মা। তাঁর দাবি, এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জুলাইয়ের ওই চিঠিতে সায়মা ভ্রমণসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে অভিযোগটির সূত্রপাত হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সায়মা বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছেও তিনি এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন বলে জানান।
এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আওতায় বাংলাদেশ ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম সমন্বয় করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটির নীতিমালা বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে নতুন করে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এর আগে গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন। তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা হবে না বলে জানিয়েছিল ডব্লিউএইচও।
১০৬ বার পড়া হয়েছে