এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামো পুনর্গঠনের অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তির মুখে পড়া ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফ করেছে বর্তমান সরকার। রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পৃথক আদেশে এসব কর্মকর্তার শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায়।
এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একই ঘটনায় শাস্তি পাওয়া আরও চার কর্মকর্তার দণ্ডও মওকুফ করার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে শাস্তির মুখে পড়া মোট ২৪ কর্মকর্তার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।
আইআরডির জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লঘুদণ্ড মওকুফ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরকে দুই ভাগ করে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের জন্য ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর বিরোধিতা করে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।
গত বছরের ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এনবিআরের কার্যক্রম বিদ্যমান কাঠামোতেই পরিচালিত হবে বলেও তখন জানানো হয়।
এরপর এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে তাঁকে এনবিআরের কার্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।
দাবি আদায়ে ২৮ জুন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এতে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরদিন অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরের সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
একই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্যও তাঁদের সতর্ক করা হয়। সংকট সমাধানে পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছিল।
পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
আন্দোলনের পর কর্মসূচির সামনের সারিতে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তথ্যানুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন দফায় মোট ১৬ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান শুরুর কথা জানায় সংস্থাটি।
এরপর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে মূল বেতন দুই ধাপ বা তার বেশি কমিয়ে দেওয়ার মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনে ‘সংগঠকের ভূমিকা পালন’সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআরের কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শাস্তির কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকলে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।
সেখানে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের অতীতের বিষয় ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং শাস্তি মওকুফের আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার ২০ কর্মকর্তার লঘুদণ্ড মওকুফের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে তাঁদের কর্মসূচির বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌক্তিক। এখন তাঁরা আশা করছেন, আন্দোলনের কারণে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এনবিআরের তিন সদস্য এবং আরও একজন কর কমিশনারকেও সরকার চাকরিতে পুনর্বহাল করবে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে