কুষ্টিয়ায় অস্ত্র ও ককটেলসহ যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদেশি পিস্তল ও ককটেলসহ রকি হোসেন নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সিরাজনগর বেলতলা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটক যুবকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সিরাজনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী ও কারবারিদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন এলাকাবাসী। এরই প্রতিবাদে শনিবার রাতে স্থানীয়রা একটি মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে সিরাজনগরের একটি বাঁশবাগানে কয়েকজন মাদক কেনাবেচার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান গ্রামবাসী।
এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় রকি হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। গ্রামবাসী ধাওয়া দিলে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রকিকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণধোলাই দেয়।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রকিকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ধারালো রামদা এবং একটি তাজা ককটেল জব্দ করেছে পুলিশ।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, মাদকবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গণপিটুনিতে আহত ওই যুবক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে