পর্যটকদের জন্য খুলল সুন্দরবন, এক দিনেই ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। এরই মধ্যে বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একযোগে ৪টি বাহিনীর ৫২ জন জলদস্যু র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এই দ্বৈত ঘটনায় সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের মনে স্বস্তি ও উদ্দীপনা ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ এবং বনজীবীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর আগে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস বনে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম দিনেই সুন্দরবন ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য ৪টি লঞ্চের পারমিট দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের জন্য প্রায় ৬ হাজার বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) নবায়ন করা হয়েছে। তবে বন উজার ও বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার রোধে বন কর্মকর্তারা বিশেষ নজরদারি রাখবেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিম সুন্দরবনের ডিএফও এজেডএম হাসানুর রহমান
এদিকে, সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে বনকে নিরাপদ রাখতে বড় একটি সাফল্য পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সুন্দরবনে সক্রিয় ৪টি কুখ্যাত জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ জন সদস্য অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে র্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছেন।
র্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে