রংপুরের চার খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্ট নেগেটিভ
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। তাঁদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—পুলিশের আগের এমন দাবিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রংপুরের আলোচিত চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের পরীক্ষায় মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের ডোপ টেস্ট করানো হয়। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে প্রযুক্তিবিদদের উপস্থিতিতে তাঁদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দুজনের শরীরে মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষার পর তাঁদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য তাঁরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফলে হত্যার আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—তদন্তে পুলিশের উঠে আসা এই দাবির সঙ্গে বর্তমান ডোপ টেস্টের ফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে ডোপ টেস্ট নেগেটিভ হওয়াকে কেন্দ্র করে মামলার তদন্ত নতুন কোনো দিকে মোড় নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ডোপ টেস্টের ফলের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলাটি কোন দিকে যাচ্ছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আসামিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে