সর্বশেষ

জাতীয়

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ, আড়াই শ গুমের অভিযোগ তদন্তে

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ২:১১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। বাংলাদেশে ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া আড়াই শ ব্যক্তির অভিযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। এর মধ্যে বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তদন্ত শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেশে গুমের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় জমা পড়া প্রায় ৩০০ অভিযোগের মধ্য থেকে আড়াই শ ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্তে গুম বিষয়ে অভিজ্ঞ পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিজেই দলটির কার্যক্রম তদারক করছেন। তদন্ত শেষ হলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের লক্ষ্য রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, আড়াই শ অভিযোগ পর্যালোচনা করে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন পদ্ধতির মিল পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কিংবা সাদা পোশাকে বাড়ি বা বিভিন্ন স্থান থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনা ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গুমের অভিযোগ পাওয়া গেলেও প্রাথমিকভাবে আড়াই শ ব্যক্তির ঘটনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তদন্ত দলের সদস্যরা ইতিমধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোথা থেকে, কখন এবং কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের ছবি সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অনেকের বক্তব্য রেকর্ডও করা হয়েছে।

তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, কল ডিটেইল রেকর্ড বা সিডিআর এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ঘটনা হওয়ায় তদন্ত শেষ করতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই আড়াই শ অভিযোগের মধ্যে প্রায় ১৫০টি এসেছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ থেকে। আরও ৬০টি অভিযোগ এসেছে ‘আমরা গুম পরিবার’ থেকে। বাকি অভিযোগ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে।

গুমের অভিযোগ করা পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে গণশুনানিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট গুম হওয়া ৬০ জনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কয়েক দফা সংশোধন আনে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর জারি করা সংশোধনীতে অপহরণ, দাসত্ব, বেআইনি আটক, নির্যাতন, জোরপূর্বক নির্বাসন, যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক গুমসহ কয়েকটি অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় আনা হয়।

সংশোধিত আইনে ব্যাপক বা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত জোরপূর্বক গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ও তদন্ত সংস্থায় গুমের অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়াতেও ব্যাপক বা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত গুমের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া আইনটি আগামী সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার’ বা জেআইসি এবং র‌্যাবের ‘টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’ বা টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

টিএফআই সেল মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কর্মরত ১০ জন সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন। এ মামলায় গত বছর ২৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরই মধ্যে সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামী ৩১ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

জেআইসি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান ১২ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ মামলায় গত বছর ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এ পর্যন্ত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ৩১ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

অন্য মামলাটি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। এই মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ পর্যন্ত নয়জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলারও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৩১ আগস্ট।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যাপক ও পদ্ধতিগত গুমের অভিযোগে আরও ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে সাতটি মামলা ট্রাইব্যুনাল-১ এবং তিনটি মামলা ট্রাইব্যুনাল-২-এর অধীনে তদন্তাধীন।

এসব মামলায় মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান তিনটি মামলায় আসামি। এ ছাড়া আরও আটজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আড়াই শ গুমের অভিযোগের তদন্ত সফলভাবে শেষ করে একটি বড় পরিসরের মামলা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা গেলে বাংলাদেশের গুমের ঘটনাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ায় তা গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

১৩৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন