সর্বশেষ

জাতীয়

শিশুদের আইনি সহায়তা সহজ ও দ্রুত করার তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইনি সহায়তা আরও সহজ, দ্রুত, কার্যকর ও শিশুবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সহিংসতার শিকার অনেক শিশু ও তাদের পরিবার অভিযোগ করতে পিছিয়ে যায়।

শিশুদের সহিংসতা, নির্যাতন ও শোষণ থেকে সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য সহজ, দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৪ আগস্ট নারী মৈত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত সভায় শিশুদের জন্য বিদ্যমান আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সহজসাধ্য, শিশুবান্ধব ও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

Strengthening Community and Institutional Response to Child Sexual Abuse and Exploitation Project প্রকল্পের আওতায় সভাটির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, শিশু ও যুব প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে, কোনো শিশু সহিংসতা, নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হলে অনেক ক্ষেত্রে শিশু ও তার পরিবার ঘটনা জানাতে বা আইনি পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হয় না। এর অন্যতম কারণ নিরাপত্তার আশঙ্কা, সামাজিক চাপ, ভয়, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং কোথায় ও কীভাবে অভিযোগ করতে হবে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব। এ ছাড়া দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও পরিবারগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরী ও যুব প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু আইনি সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; শিশু ও পরিবারের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। অভিযোগ করার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় সেবা, আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় সহজ ভাষায় জানানো প্রয়োজন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মানবাধিকার আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সালমা আলী। তিনি বলেন, সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং সহিংসতার শিকার হলে কোথায় ও কীভাবে সহায়তা চাইতে হবে, সে বিষয়ে শিশু ও তাদের পরিবারকে জানাতে হবে।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী শিশু সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন ও নীতিমালা থাকলেই হবে না, এসব সেবা শিশু ও পরিবারের কাছে সহজলভ্য করতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর শিশুরা যেন বৈষম্য বা ভয় ছাড়াই আইনি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) প্রতিনিধি, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং নারী মৈত্রীর কিশোর-কিশোরী ও যুব ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানান, কোনো শিশু সহিংসতা বা নির্যাতনের শিকার হলে সে যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা, ভয় বা অনিশ্চয়তার কারণে তার পরিবার যেন অভিযোগ করা থেকে পিছিয়ে না যায়—এটাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন নারী মৈত্রীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা হুদা।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন