ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, প্রসূতির মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাইয়ের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল নামের ওই নারীর মৃত্যুর পর সিভিল সার্জন এই পদক্ষেপ নেন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কনিকা মন্ডলকে (৩৬) প্রসবব্যথা নিয়ে গত ২৯ জুন ফরিদপুরের নিলটুলী মুজিব সড়কসংলগ্ন বেসরকারি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় গাইনি সার্জন ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। এতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির পেটে বড় একটি সার্জিক্যাল গজ রেখেই সেলাই সম্পন্ন করা হয়। এর পরদিন থেকেই রোগীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করে। এ বিষয়ে বারবার hospital কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানালেও তারা গুরুত্ব না দিয়ে রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই কনিকাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মোক্তার হোসেন খানকে সভাপতি এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগমকে এই কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যদি hospital কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকের কোনো অবহেলা বা চিকিৎসাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে