গ্যাস সংকটে বন্ধ ৩০০ পোশাক কারখানা, রপ্তানি ধসের শঙ্কায় বিকেএমইএর ৬ দাবি
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ নিটওয়্যার ও তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়াসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ।
নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে এক জরুরি ব্যবসায়ী বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি জানান, গ্যাস না থাকায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে গত ১০ আগস্টের পর গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় বড় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে তাদের অর্ডার বাতিল করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে স্থানান্তর করছে, যা দেশের অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলছে।
উদ্ভূত এই জাতীয় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিকেএমইএর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুন ও জুলাই মাসের বকেয়া গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এবং এই সময়ে বিল বকেয়া থাকলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।
এছাড়া সংকটের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে প্রতি সপ্তাহে সরকারি ব্রিফিং নিশ্চিত করা, অনতিবিলম্বে সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়। একই সাথে বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম, সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, অমল পোদ্দার, আশিকুর রহমান এবং সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি কাজী মনীরসহ পোশাক খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে