সর্বশেষ

সারাদেশ

‘বাবা আজ ফিরবে’ অপেক্ষায় ছোট্ট মহিমা, ফিরবে দেবাশীষসহ ৪ নিথর দেহ

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার আগের রাতে এই নির্মম ট্র্যাজেডিতে পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার বাড়িতে বেঁচে আছে তাঁর ছোট্ট শিশু মহিমা। একমাত্র মেয়ে মহিমা এখনো পথ চেয়ে বসে আছে—কখন ফিরবে তার বাবা-মা, ভাই আর নানা; কিন্তু সে জানে না তারা আর কখনো ফিরবেন না।

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা এবং ‘আজকের পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল নাইন’-এর জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৪০) তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে (৬৪) নিয়ে গত ৩ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসা শেষে গত ১৮ আগস্ট তাঁরা কলকাতায় ফিরে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। কিন্তু সেই রাতেই হোটেলটিতে ঘটে যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যাতে প্রাণ হারান একই পরিবারের এই চার সদস্য।

এই মর্মান্তিক ঘটনার সময় দেবাশীষের আট বছর বয়সী শিশুকন্যা মহিমা (পাখি) কুষ্টিয়ার বাড়িতেই ছিল। ফলে সে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও এখন সে সম্পূর্ণ একা। অবুঝ মহিমা এখনো বুঝতে পারছে না তার মাথার ওপর থেকে চিরতরে সরে গেছে বাবা-মায়ের ছায়া। বাড়িতে স্বজনদের কান্না আর মানুষের ভিড় দেখে সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত এখন প্রায় পাগলপ্রায়। বিলাপ করতে করতে তিনি বলছেন, “আমার দেবাশীষকে এনে দাও। ও আমাকে বলেছিল আজ কুষ্টিয়ায় ফিরবে। আমি তো ওনাকে এভাবে ফেরত চাইনি।” অন্যদিকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত। স্বজনরা জানান, মৃত্যুর আগের রাতেও দেবাশীষ তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন।

দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দায়িত্বশীল একজন কর্মী ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের আলো’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষ করে তুলতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘রাইজিং জার্নালিস্ট কমিউনিটি’। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কলকাতায় হোটেলগুলোর ঘিঞ্জি পরিবেশ ও অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের সহকর্মী ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন ও প্রথম আলোর প্রতিনিধি তৌহিদ হাসান শিপলু এই অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা থাকলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয়।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন