সর্বশেষ

সারাদেশ

দেবাশীষসহ ৪ জনের মরদেহ ফিরছে শনিবার, অপেক্ষায় স্বজনরা

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ আগামী শনিবার দেশে আনা হতে পারে। সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ও খরচে এই মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারটির একমাত্র জীবিত সন্তান মহিমা দত্তের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মরদেহ গ্রহণ করতে দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান ইতোমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছেছেন। সেখানে থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্জয় ঘোষ ও কাঞ্চন নন্দী মরদেহ দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

কলকাতা থেকে ৪টি মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশী টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল, যা এই শোকগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে মরদেহগুলো দেশে আনার ঘোষণা দেয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো হস্তান্তর করার পরই তা স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষ দত্তের ভাড়া বাসায় এখন শোকের মাতম চলছে। তাদের আট বছরের মেয়ে মহিমা দত্ত বাবা-মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে রয়েছে। শোকার্ত এই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটে গেছেন।

নিহতদের সৎকার ও দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দেবাশীষের সৎকারের যাবতীয় খরচ মওকুফ করা হয়েছে। স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন নামক একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে নিহত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশী নাগরিক। ধর্মীয় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেবাশীষ ও আফসানা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন এবং সুখী সংসার গড়ে তুলেছিলেন। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবাশীষ ও তার ছেলের সৎকার করা হবে এবং আফসানা ও তার বাবার দাফন সম্পন্ন হবে।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন