ফরিদপুরে পেটে গজ রেখেই সেলাই, ৫০ দিন পর গৃহবধূর মৃত্যু
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার দীর্ঘ ১ মাস ২০ দিন পর অবশেষে মারা গেলেন কনিকা মন্ডল (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের এমন চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। গত ২৯ জুন সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য তাঁকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনিকার একটি কন্যাসন্তান প্রসব করান।
তবে অপারেশনের পরদিনই কনিকা মন্ডলের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার পর ধরা পড়ে যে, সিজার করার সময় ভুলবশত পেটের ভেতরেই গজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল।
গত ৭ জুলাই পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই গজ বের করা হলেও কনিকার শারীরিক অবস্থা আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারের চরম অবহেলার কারণেই আমার স্ত্রীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি। তিনি আরও জানান, ভুল স্বীকার করে অভিযুক্ত ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে