কুষ্টিয়ায় নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান: ২ কোটির মালামাল এক রাতেই গায়েব!
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি অবৈধ নকল সিগারেট কারখানা সিলগালা করার পর সেখানে পুনরায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাতে দায়ের করা মামলায় জব্দকৃত মালামালের পরিমাণ বিপুল হারে কমিয়ে দেখানো হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের গরুর খামারের একটি গোডাউনে গত ১২ আগস্ট দুপুরে অভিযান চালায় প্রশাসন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে থানা পুলিশ ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা জাল সিগারেট উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছিল।
কিন্তু গভীর রাতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধি কাজী মর্তুজা রেজার দায়ের করা মামলায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। মামলার এজাহারে মাত্র ২৫ হাজার শলাকা সিগারেট ও ২৫ বস্তা তামাক জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য মাত্র তিন লাখ টাকা। ফলে একরাতের ব্যবধানে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ টাকার জব্দকৃত মালামাল নথিপত্র থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগেও গত ৯ মে এই একই গোপন কারখানায় র্যাব ও কাস্টমস যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি আধুনিক সিগারেট তৈরির মেশিনসহ কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছিল। সিলগালা করা একটি অবৈধ কারখানা কীভাবে পুনরায় প্রশাসনের নাকের ডগায় চালু হলো এবং কোটি টাকার জব্দকৃত মেশিনগুলো কার হেফাজতে ছিল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেশিনটি তালাবদ্ধ রাখার কথা বললেও সেটি কার জিম্মায় রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
গোডাউনের মালিক হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব মাস্টার নিজেকে স্কুলশিক্ষক দাবি করে বলেন, তিনি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন এবং সেখানে কী উৎপাদন হতো তা তিনি জানতেন না। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের পূর্বের নথিপত্র অনুযায়ী, এই স্থানে আগেও একাধিকবার নকল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল, যা বাড়ির মালিকের অজ্ঞতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতেই দুই কোটি টাকার তথ্য জানানো হয়েছিল। মামলার এজাহারে মালামাল কমিয়ে দেখানোর এই ঘটনা তদন্তকারী দল ও প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৩১ বার পড়া হয়েছে