সর্বশেষ

সারাদেশ

কলাপাড়ায় ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ, ওষুধ সংকটে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জরাজীর্ণ ভবন ও তীব্র ওষুধ সংকটে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ বছর আগে নির্মিত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রসূতি মা ও শিশুরা। ফলে উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থলটি এখন নিজেই যেন ‘লাইফ সাপোর্টে’ চলে গেছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৭টি ভবনই দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ এসব ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং দেয়াল ও মেঝেতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং ওষুধসহ বিভিন্ন জরুরি মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা ক্লিনিকগুলোর মধ্যে টিয়াখালী ইউনিয়নে ৪টি, ধানখালীতে ৩টি, নীলগঞ্জে ২টি, ডালবুগঞ্জে ২টি এবং চাকামইয়া, লালুয়া, বালিয়াতলী, মহিপুর, ধূলাসার ও লতাচাপলী ইউনিয়নে ১টি করে ক্লিনিক রয়েছে। ২৬ বছর আগে নির্মিত এসব ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে এবং টয়লেট ও পানির সুব্যবস্থা নেই বললেই চলে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রসূতি নারী ও রোগীরা এখন ক্লিনিকে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশাপাশি চরম আকার ধারণ করেছে ওষুধ সংকট। সরকারি নিয়মানুযায়ী গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রতিটি ক্লিনিকে অন্তত ২০ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ক্লিনিকই ওষুধশূন্য। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় এসে প্রতিদিন খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে হাজারো প্রান্তিক রোগীকে।

অন্ততপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাবিহা সুখী জানান, ছাদের বড় বড় অংশ ধসে পড়ার কারণে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, পূর্ব মধুখালী ক্লিনিকের সিএইচসিপি ইশরাত জাহান জানান, জরাজীর্ণ ভবনে সেবা দেওয়ার পরিবেশ না থাকায় বর্তমানে পাশের ইউনিয়ন পরিষদে কোনোমতে চিকিৎসাকার্য চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, সিএইচসিপিরা আন্তরিকতার সাথে প্রাথমিক সেবা দিলেও ক্লিনিকগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। এগুলো দ্রুত ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলোর তালিকা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ওষুধ সংকট দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন