সর্বশেষ

জাতীয়

সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, চলমান সংকটের কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। সামিটের টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। এ দুটি কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এক্সিলারেট টার্মিনাল বর্তমানে বয়লারসংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট টার্মিনালে এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংকট স্বাভাবিক হওয়ার সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে এখনই দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। প্রকৃতির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সামিট টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হবে এবং তখন গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

গ্যাসের সংকট সামাল দিতে মালয়েশিয়ার কাছেও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় চিঠি পাঠানোর পর দুই দেশের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। পরে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করেছে। বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছে সরকার।

এ ছাড়া আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ট্যাংকের বাজারে প্রাপ্যতা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এটিকে মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেও কার্যকর কোনো পরামর্শ পাওয়া গেলে তা বিবেচনা করা হবে।

দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাঁর মতে, গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তেরও প্রভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, আগের সরকারগুলো অনেক ক্ষেত্রে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জনরোষের আশঙ্কায় পুলিশকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জনরোষের বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জানানোর চেষ্টা করা হবে। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার সংকট মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

১১২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন