ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের তারাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে জমি দখল ও জমি বিক্রির অভিযোগ তুলে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব প্রচারের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রিংকু চক্রবর্তী।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী তারাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিংকু চক্রবর্তীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বার্থান্বেষী একটি মহল কয়েকটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এতে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রিংকু চক্রবর্তীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট বিকেলে ‘বাংলা নিউজ সিলেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাঁকে এবং মহানগর যুবদলের এক নেতাকে জড়িয়ে জমি দখলের অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একই পেজ থেকে তাঁর ছবি ব্যবহার করে জমি বিক্রির অভিযোগ তুলে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পরে ‘sylhet 9 news’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই ধরনের অভিযোগসংবলিত ভিডিও প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে রিংকু চক্রবর্তী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভিডিওতে যে জায়গাকে জমি দখল বা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, সেটি তারাপুর ও মালনিছড়া চা-বাগানের সীমান্তবর্তী একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। জায়গাটি বর্তমানে মালনিছড়া চা-বাগানের দখলে রয়েছে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন।
রিংকু চক্রক্তীর দাবি, ওই এলাকায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের চেষ্টা হলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। একই ঘটনায় মালনিছড়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে আমাকে জড়িয়ে ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
এদিকে ‘বাংলা নিউজ সিলেট’ পেজের মালিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় তাঁকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন রিংকু চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, এ ধরনের আচরণকে তিনি হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
রিংকু চক্রবর্তী আরও বলেন, আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফাভাবে তথ্য প্রচার করা অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব প্রচারের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতাও অনুভব করছেন। তাঁর ভাষ্য, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তিনি সাইবার সুরক্ষা আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিলেটের সচেতন নাগরিকদের কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে প্রকাশিত ভিডিওগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোর বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে