কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত আড়াইশ' ছাড়িয়েছে
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৫:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা আড়াইশ ছাড়িয়েছে। সোমবারের এই ভূমিকম্পে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের ক্যালি, পেরেইরা ও চোকোসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কফি উৎপাদন অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায়। ক্যালি ও পেরেইরাসহ বিভিন্ন শহরে বাড়িঘর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়েছেন।
আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, দমকলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে রাতভরও অভিযান চালানো হয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকার পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের হিসাবে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছয়টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ভূমিকম্পের পর পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মূল কম্পনের ঝাঁকুনি কলম্বিয়ার বাইরেও পানামা, ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলার কিছু এলাকায় অনুভূত হয়েছে। রাজধানী বোগোতাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভূমিকম্পে প্রাণহানিতে শোক জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এলাকাগুলো থেকে তথ্য পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে