উত্তর কোরিয়ার আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। এটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরের দিকে গিয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর এটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সামরিক কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন, উড্ডয়নপথ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া দূরত্বের তথ্য অনুযায়ী, এটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণভাবে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক শ কিলোমিটার থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ চলতি মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা। এর আগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল। গত বৃহস্পতিবারও পূর্ব সাগরের দিকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল পিয়ংইয়ং।
নতুন এই উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি জাপান, অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে উৎক্ষেপণের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিমান ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরও উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বুধবারের উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেন। উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
১৩২ বার পড়া হয়েছে