সাভারে ভাড়া বাসায় ১৫ পাইপ বোমা, জেএমবির সদস্য আটক
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে মাত্র কয়েক দিন আগে ভাড়া নেওয়া একটি বাসা থেকে ১৫টি পাইপ বোমা, বিভিন্ন রাসায়নিক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত আরিফ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট উদ্ধার করা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একটি ব্যাগসহ আরিফকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, আরিফের কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ছয়টি পাইপ বোমা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ওই বাসা থেকে আরও নয়টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের কাছ থেকে চলতি মাসের ২ আগস্ট নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয় পরিবারটি। পরদিন থেকেই তারা সেখানে বসবাস শুরু করে। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় নিজেদের পরিচয় গোপন করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামের একজনসহ আরও একজন প্রথমে বাসা ভাড়া নিতে আসেন। তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা জানান। তাঁদের একজন গাড়িচালক এবং শিশুদের পড়ানোর জন্য স্থানীয় একটি স্কুলে কাজ করবেন বলেও জানানো হয়েছিল। পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলায় তখন তাঁদের নিয়ে বাড়ির মালিকের তেমন সন্দেহ হয়নি।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাঁদের ধারণা ছিল, সেখানে একটি সাধারণ পরিবার বসবাস করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, ওই আস্তানায় ‘বোমারু মামুন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। তিনি বোমা তৈরিতে দক্ষ এবং সেখানে এ ধরনের কাজ তদারকি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাঁর পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, অভিযান চলাকালে পুরো এলাকা নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। উদ্ধার করা বিস্ফোরক বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করেছেন।
ওসি আরও জানান, আটক আরিফের কাছ থেকে জেএমবির দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমসংক্রান্ত লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাসায় কী উদ্দেশ্যে বোমা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, বিস্ফোরক ও রাসায়নিক উপাদানগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে জানতে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
১৪০ বার পড়া হয়েছে