মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব ও মন্ত্রীর পদে কে আসবেন
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। তবে দলটি আগাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়ে ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করবে। একই দিনে নির্বাচন কমিশনে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কেন্দ্র করে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। দলের স্থায়ী কমিটি প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চেয়ারম্যানের ওপর দেওয়ায় বিএনপি আগাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট বিকেল ৪টা। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ওই ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার।
রাষ্ট্রপতি পদে এরই মধ্যে বিএনপির বাইরে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। তাদের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন জমা পড়লে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতার প্রস্তুতিও এগিয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সম্মতিসূচক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় এ নিয়ে আইনগত কোনো সমস্যা নেই।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপি ও সরকার—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁকে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য পদও শূন্য হবে। ফলে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব, মন্ত্রিসভা এবং সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
দলের মহাসচিব পদে পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়েও ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিলের বিধান কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাঁরা নির্বাচনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আনতেই তাঁদের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণের পাশাপাশি ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে। প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ—এই তিন ক্ষেত্রেই পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে