নড়াইল থেকে বিশ্বমঞ্চে তানজিম, শিশু শান্তি পুরস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার তরুণ মো. তানজিম শেখ। ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কারের জন্য তাঁর মনোনয়নের তথ্য গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা KidsRights।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার তরুণ মো. তানজিম শেখ।
‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার শিশু ও তরুণদের অধিকার, শান্তি ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের কাজকে স্বীকৃতি দেয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা KidsRights গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তানজিমের মনোনয়নের তথ্য প্রকাশ করেছে।
তানজিম শেখ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার খাশিয়াল ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাহাঙ্গীর শেখের সন্তান। আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা PeaceNest-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, PeaceNest-এর বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সহায়তা পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে তানজিমের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘SilentRoom’ প্ল্যাটফর্ম। মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছেন তানজিম। এ উদ্দেশ্যে তিনি ‘NeuroZen’ নামে নিউরোসায়েন্স ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
তানজিম শেখ বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনো বিলাসিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মানসিক সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে এবং প্রয়োজনের সময় তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা নয়, বরং একজন তরুণ যখন মানসিক সংকটে পড়বে তখন যেন সহজে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তানজিমের। International Youth Conference Season 12-এ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। PeaceNest United Nations Major Group for Children and Youth (UN MGCY)-এর member হিসেবেও যুক্ত রয়েছে।
তানজিম মনে করেন, তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনো সংখ্যা, কোনো স্বীকৃতি বা কোনো শিরোপা নয়। বরং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও accessible করে তোলা এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে একজন মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারাই হবে তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
তানজিম বলেন, “আমাদের এখন খুব প্রয়োজন শান্তির। আমি আশা করি, আমাদের কাজ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে সেই দিকেই নিয়ে যাবে।”
নড়াইলের প্রত্যন্ত এলাকার একজন তরুণের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তানজিমের এই উদ্যোগ দেশের তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে