সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ১৩২

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং এর আশপাশের শহরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেরেইরা মহানগর এলাকায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি যাচাই করে ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। ভবনটি ধসে পড়ার পর আশপাশের এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ও ধুলার স্তর ছড়িয়ে পড়ে।

পেরেইরার কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কালি শহরেও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে অনেক বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

মানিজালেস শহরে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে বেশ কিছু ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট ও প্লাস্টার খসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কুইবদো, মেডেলিন, চোকো ও ভায়ে দেল কাওকা অঞ্চলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী বোগোটাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সময় গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল দুলতে দেখা যায়। কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিলেও রাজধানীতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের প্রভাবে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ কাজে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রস্তাবও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্ধার তৎপরতায় কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার হিসাবে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভূমিকম্পটির শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির বেশ গভীরে। সাধারণত গভীর ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পের তুলনায় কম ক্ষয়ক্ষতি ঘটালেও এর শক্তিশালী কম্পন ভবন ও অবকাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন