লোডশেডিংয়ে তীব্র বরফ সংকট, সাগরে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে মারাত্মক বরফ সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বরফ না মেলায় ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাগরে যেতে পারছে না শত শত মাছধরা ট্রলার। ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
পটুয়াখালীর অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরন কেন্দ্র মহিপুর ও আলীপুরে দিনে-রাতে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থানীয় বরফ কলগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে বরফ।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, পূর্বে ১৫০ টাকায় যে বরফের ক্যান পাওয়া যেত, বর্তমানে তা ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাড়তি মূল্য দিয়েও সময়মতো বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশ শিকারের এই ভরা মৌসুমে বরফের অভাবে ঘাটেই অলস বসে থাকতে হচ্ছে জেলে ও ট্রলার শ্রমিকদের।
মহিপুর এলাকার জেলে আবদুর রহিম ও ট্রলার মালিক সুমন মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে মাছ ধরার অনুকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও বরফের অভাবে তারা যাত্রা করতে পারছেন না। ট্রলারের পেছনে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বন্দরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মহিপুর গাজী আইচ প্লান্টের স্বত্বাধিকারী মো. মজনু গাজী জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে গিয়ে জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে লোকসান এড়াতে বরফের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট একটি জাতীয় সমস্যা হলেও স্থানীয় মৎস্য বন্দরগুলোতে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। সেই সঙ্গে বরফের অতিরিক্ত দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামানও পল্লী বিদ্যুতের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
১২৪ বার পড়া হয়েছে