টুঙ্গিপাড়ায় ভাঙা ঘরে নবজাতকের জন্ম: পাশে দাঁড়াল প্রশাসন
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ৯:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ভাঙা ঘরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে এক অসহায় দম্পতির ঘরে জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক। চরম দারিদ্র্য আর মাথার ওপর নিরাপদ ছাদহীন এই পরিবারটির করুণ চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসার পর দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়েছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রশাসন। নবজাতকের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিবারটিকে একটি নতুন ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের বাঘিয়ারকুল দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা চিন্ময় মন্ডল ও আরতী মন্ডল দম্পতি। দীর্ঘ দিন ধরে চরম অর্থকষ্টে ভুগছেন তারা। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে কৃষ্ণ মন্ডল শারীরিক প্রতিবন্ধী। সম্প্রতি তাদের ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরে বৃষ্টির মধ্যেই জন্ম নেয় এক নবজাতক শিশু।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তীব্র কুয়াশা ও বৃষ্টির দিনে ওই ভাঙা ঘরে থাকার কোনো পরিবেশ ছিল না। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় কখনো মন্দির, আবার কখনো অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হতো এই পরিবারটিকে। তিন দিন বয়সী নবজাতকের নামও এখনো রাখা হয়নি। এমন মানবেতর পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান টুঙ্গিপাড়ার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। তিনি অসহায় পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং নবজাতকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পরিবারের প্রধান চিন্ময় মন্ডল জানান, দিনমজুর হিসেবে কাজ পেলেও বর্তমানে তাও অনিয়মিত। প্রতিবন্ধী স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে ঠিকমতো অন্ন জোগানোই যেখানে কষ্টের, সেখানে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছিল অবাস্তব। সরকারি সহায়তায় একটি স্থায়ী বাসস্থান পেলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার নতুন আশা পাবেন বলে জানান তিনি।
পাটগাতী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুষু জানান, পরিবারটির এমন অবস্থার কথা পূর্বে তাদের জানা ছিল না। গণমাধ্যমের সহায়তায় বিষয়টি জানার পর তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারটির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে