সর্বশেষ

সারাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমে নতুন বিপ্লব: বিশ্ববাজারে যাচ্ছে ‘ড্রাই ম্যাঙ্গো’

আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্বৃত্ত ও অতিরিক্ত পাকা আমের অপচয় রোধে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যকর ‘ড্রাই ম্যাঙ্গো’। শিবগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীমের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ শুধু কৃষকদের লোকসানই কমাচ্ছে না, বরং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডে বিশ্ববাজারে প্রবেশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ঐতিহ্যগতভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমের জন্য বিখ্যাত হলেও প্রতিবছর মৌসুমের শেষভাগে বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়ে যেত। অতিরিক্ত পেকে যাওয়া কিংবা বাজারের সঠিক দাম না পাওয়ার কারণে চাষিরা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়তেন। এই চিরচেনা লোকসানের চিত্রকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে গড়ে উঠেছে আম শুকিয়ে ড্রাই ম্যাঙ্গো তৈরির বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট।

শিবগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ২০২২ সালে থাইল্যান্ড সফরের সময় শুকনো আমের আন্তর্জাতিক বাজারের খোঁজ পান। দেশে ফিরে দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সুইজারল্যান্ডভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুইসকন্টাক্ট’-এর কারিগরি সহায়তায় তিনি নিজের বাড়িতেই একটি ড্রাই ম্যাঙ্গো তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। বর্তমানে মৌসুমে প্রতিদিন সেখানে গড়ে একশো কেজির বেশি ড্রাই ম্যাঙ্গো উৎপাদিত হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতিতে প্রথমে বাগান ও স্থানীয় বাজার থেকে সম্পূর্ণ তাজা আম সংগ্রহ করা হয়। পরে আধুনিক ডিহাইড্রেটরে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা শুকানোর পর ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে তা সংরক্ষণের উপযোগী করা হয়। কৃত্রিম কোনো প্রিজারভেটিভ ছাড়াই এই প্রক্রিয়ায় আম এক বছরের বেশি সময় ধরে ভালো রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

নতুন এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছেন স্থানীয় আমচাষিরা। অবিক্রীত বা অতিরিক্ত পাকা আম সরাসরি কারখানায় বিক্রি করতে পেরে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আমের অফ-সিজনেও স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ সুগম হয়েছে।

তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিসরের এই সম্ভাবনাময় খাতকে বৈশ্বিক দরবারে নিয়ে যেতে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং ও মানসনদ নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় ড্রাই ম্যাঙ্গো রপ্তানির মাধ্যমে বিশাল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই তরুণ উদ্যোক্তাদের আমকে কেন্দ্র করে বহুমুখী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা জেলার আমভিত্তিক শিল্পায়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন