রাজশাহীতে নাবিল গ্রুপের পোল্ট্রি বর্জ্যে চরম পরিবেশ দূষণ, বিপন্ন জনজীবন
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় নাবিল গ্রুপের মালিকানাধীন 'নাবা ফার্মের' মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য অবাধে ফেলায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। রাতের আঁধারে ফেলা এসব পোল্ট্রি বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় খাল-বিল, পুকুর ও ফসলি জমির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গভীর রাতে ট্রাকে করে পোল্ট্রি বর্জ্য ফেলার এই ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট সংলগ্ন নাবা ফার্ম থেকে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে রাতের আঁধারে বিভিন্ন জলাশয় ও ফাঁকা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। বিশেষ করে রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে এই তৎপরতা বেশি চলে।
দূষিত বর্জ্য ফেলার কারণে এলাকার ফসলি জমি ও জলাশয়ের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। গোমা ও ঝিকড়াপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগীরা জানান, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ঘরের বাইরে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে। নোংরা পানির কারণে পুকুরের মাছ মারা যাচ্ছে এবং গবাদিপশুকে গোসল করানো বা কৃষিকাজে সেচ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইভাবে পবা ও দুর্গাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী ফলিয়ার বিল এলাকাতেও এই নোংরা বর্জ্যের স্তূপ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পোল্ট্রি বর্জ্য নিয়ে যাতায়াতকারী গাড়িগুলো স্থানীয় বাসিন্দারা আটকানোর চেষ্টা করলে তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসগার আলীও পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তবে এখনো দৃশ্যত কোনো সমাধান মেলেনি।
এর আগে পরিবেশ দূষণের দায়ে গত জুলাই মাসে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত নাবা ফার্মকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। একই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মচারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। তবে কিছুদিনের জন্য এই বর্জ্য ফেলা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে তা আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নাবিল গ্রুপের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি। গ্রুপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান অথবা ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকেন।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন জানান, নতুন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
২১৩ বার পড়া হয়েছে