সর্বশেষ

জাতীয়

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ফায়ার সার্ভিসও : ডিজি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ ৮:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানী ঢাকায় ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রমও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি বলেন, একই সময়ে বহু স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে উঠবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল

রাজধানীর বঙ্গবাজারে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্যদের জন্য আয়োজিত অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।

রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ফলে দুর্যোগের পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে একটি বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। দুর্যোগের সময় এসব স্টেশন থেকে দ্রুত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি মহড়াও সম্পন্ন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ছোট আকারের উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত ফায়ার ফাইটার দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের দুর্যোগকালীন প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ভবনের ধরন ও ধসের পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্ধার পদ্ধতিও ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিজেদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

জাহেদ কামাল বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভূমিকম্পের সময় করণীয়, লিফট ব্যবহার না করা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং জরুরি কিটে প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট ও বাঁশি রাখার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত প্রচার করা দরকার।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল ও টানেল ঘিরে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইতোমধ্যে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস একটি ব্যয়বহুল জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে যানবাহন ও সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিসের সেবাকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ফায়ার লাইসেন্স প্রক্রিয়া অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিটি লাইসেন্সে কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জাল লাইসেন্স ব্যবহারের সুযোগ কমবে।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ক্র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৪০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন